Science View

নাসা বিজ্ঞানীদের অর্থের যোগান কোথায় থেকে আসে জেনে নিন

নাসা বিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে হলে সর্বপ্রথম আমাদের জানা প্রয়োজন নাসা সম্পর্কে, নাসা কি এবং কিভাবে কাজ করে তার সম্পূর্ণ তথ্য আলোচনা আজকে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

নাসা বিজ্ঞানীদের অর্থের যোগান

নাসা বিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে হলে সর্বপ্রথম আমাদের জানা প্রয়োজন নাসা সম্পর্কে, নাসা কি এবং কিভাবে কাজ করে তার সম্পূর্ণ তথ্য আলোচনা আজকে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি

1915 থেকে 1958 সাল পর্যন্ত ন্যশনাল অ্যাডভাইসরি কমিটি ফর অ্যারোনটিক্স বানা কা নামে একটি সংস্থা মহাকাশ অভিযান বা মহাকাশ গবেষণা নিয়ে কাজ শুরু করে। যা পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড টেস্ট এডমিনিস্ট্রেশন বা নাসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে বিমানচালনা বিদ্যা ও মহাকাশ সম্পর্কিত গবেষণা করে থাকে। নবগঠিত সংস্থার প্রতি প্রত্যেকে একটি ভিন্ন ধরনের তত্ত্বাবধান আশা করে তার মহাকাশ গবেষণা এবং মহাকাশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মহাকাশ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। যার মধ্যে অ্যাপোলো মুন লান্ডিং স্কাইল্যাব স্পেস স্টেশন এবং স্পেস শাটল মিশন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করা হয়।

নাসা বিজ্ঞানীদের অর্থের যোগান কোথায় থেকে আসে জেনে নিন

নাসার বাজেট নির্ধারণ

নাসা বিজ্ঞানীদের অর্থের যোগান বা নাসার সম্পূর্ণ আয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয় কেননা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। নাসা সংস্থার কোন প্রোগ্রাম চলাকালীন সময়ে তাদের বাজেটের প্রাপ্য কিছু অংশ তাদের তত্ত্ব তহবিলে যোগ করা হয়। যেমন 1966 সালে অ্যাপোলো প্রোগ্রাম চলমান অবস্থায় তাদের মূল বাজেটের বা সম্পূর্ণ বাজেটের প্রাপ্য অংশের 4.41 শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে 1975 সালে তা দ্রুত কমতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত 1% এ এসে পৌঁছায়। পরবর্তীতে বাজেটের কোন অংশে বৃদ্ধি পায়নি অন্যদিকে তা আরো কমতে থাকে 2006 সালে প্রায়ই 0.5% নেমে আসে ধারণা করা হয় 2002 সালে 0.48 শতাংশে পৌঁছে ছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান নাসার ওপর বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তারই ধারাবাহিকতায় 2017 সালের মার্চে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প নাসার ট্রানজেকশন অথোরাইজেশন অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেন। যাতে উল্লেখ করা হয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট হতে প্রায় 19.5 বিলিয়ন মার্কিন ডলার নাসার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এবং সে একই সময়ে আরেকটি ট্রানজেকশন দাখিল করা হয় যাতে উল্লেখ করা হয় 19 দশমিক 3 বিলিয়ন ডলার নাসার জন্য বাজেট নির্ধারণ করা হবে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নাসা 22 দশমিক 62 9 বিলিয়ন মার্কিন ডলার তাদের তহবিলে প্রতিবছরই পেয়ে থাকে। যাতে করে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা সমগ্র বিশ্বের জন্য বিভিন্ন সময়ে অত্যাধুনিক মেশিন এবং বিশ্বের সকল অভিযান মহাকাশে পরিচালনা করছে।

নাসা গবেষণা করে কি পায়

নাসা তাদের গবেষণার মাধ্যমে পৃথিবী মহাকাশে নিরলস অবচরণ করছেন। পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের যেকোন দীর্ঘ গবেষণার সাথে সম্পৃক্ততা রেখেই করতে হয়। যেহেতু নকশা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজ অর্থায়নে এবং নিজ দায়িত্বে অর্পণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে আর তাই নাসা সম্পূর্ণরূপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। সেদিকটা বিবেচনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমগ্র মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ করছে। নাসায় অবস্থানরত গবেষকরা বছর শেষে একটি বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেট এর সাথে সম্পৃক্ত।

  See Wiki  

নাসার কিছু অবিশ্যম্ভাবী গবেষণা

সমগ্র বিশ্বকে পিছিয়ে রেখে নাসা তাদের গবেষণায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা দেখিয়ে দিচ্ছে যে গবেষণার মাধ্যমে অনেক কিছু উদ্ভাবন করা সম্ভব। তারা তাদের সৃষ্টিলগ্ন শুরু থেকে এমন কিছু গবেষণা করেছেন এমন কিছু উদ্ভাবন করেছে যা দেখে সমগ্র বিশ্ব তাক লেগে গেছে।

এই মুহূর্তে আমরা কিছু উদ্ভাবন এবং কিছু গবেষণা নিয়ে আলোচনা করব যা দেখে আপনি নিজেও আশ্চর্য হয়ে যাবেন…

সম্প্রীতি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মহাকাশে বেবি সুইট পাঠাচ্ছে তারা প্রায় একশর বেশি বেবি সুইট মহাকাশে পাঠাবে বলে তাদের অভিযান শুরু করেছে। এবং তার সাথে পাঁচ হাজারের মতো অণুবীক্ষণ প্রাণী মহাকাশ কেন্দ্রে পটাচ্ছে যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। স্পেসএক্সের নাইন রকেটে বহন করে আগামী মাসের 10 ই জুন বৃহস্পতিবার কিছু যন্ত্রাংশের সাথে সংযুক্ত করে মহাকাশে পাঠানো হবে এই বেবি স্কুইড।

নাসা বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন মহাকাশে পাঠানো অভিযান এর সময় নভোচারী গন্ধেশ্বরী দেবা দেহে কি ধরনের প্রভাব পড়ে সেটা তারা পরীক্ষা করে উদ্ভাবন করতে পারবে। তারা ভাবছে মানুষের সাথে জীবনের সম্পর্ক গবেষণার সাহায্যে বের করা সম্ভব। দীর্ঘ সময় ধরে অভিযানের পর অভিযানকালে নভোচারীদের শরীরে কি ধরনের প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এ বিষয়ে ধারনা পেতে পারে বলে তারা আশা করছে।নাসা বিজ্ঞানীদের অর্থের যোগান

নাসার বিখ্যাত মহাকাশ বিজ্ঞানী ডঃ অমিতাভ ঘোষ বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় এক পর্যায়ে বলেন মহাকাশে নভোচারীদের আসা-যাওয়ার থাকার ব্যাপারে এ ধরনের গবেষণা বিশেষ সাহায্য করবে। তিনি আরো বলেন আমরা যখন শুনি মানুষ চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহে যায় কিন্তু মানুষের শরীর এবং মানুষের মন মহাকাশে পরিচালনার জন্য ব্যবহার মহাকাশে পদার্পণের জন্য কতটুকু সামর্থ্য রাখে তা এই গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবন করা সম্ভব।

করোনা মহামারীতে নাসার প্রভাব:

করোনা মহামারী যেমন বিশ্বকে স্থবির করে তুলেছে ঠিক তেমনি মহাকাশ অভিযানকারি নাসা ও ব্যতিক্রম নয়। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। করণা মহামারীর বিশ্বকে আগ্রাসন করার সময় নাসা ও তাদের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি না পাওয়া পর্যন্ত সমস্ত ফ্রিজ সেন্টার বা ভিজিটর কমপ্লেক্স অস্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে এবং সকল নন ক্রিটিক্যাল বা দুর্যোগ মোকাবেলা সরাসরি সম্পৃক্ত নয় এমন সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়ি থেকে কাজ করার জন্য বিশেষ পরামর্শ প্রদান করা হয়। এমনকি বেশকিছু স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের কাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নাসা বিজ্ঞানাগারের প্রবেশের জন্য কঠোর কোয়ারেন্টাইন পালন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। কেননা যুক্তরাষ্ট্র তথা সমগ্র বিশ্বের নামধারী বিজ্ঞানীরা নাসার সাথে সম্পৃক্ত।

নাসার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক

নাসার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ়। বাংলাদেশের বেশ কিছু বিজ্ঞানী নাসার হয়ে কাজ করছে। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি বিজ্ঞানী আতিক উজ জামান, গবেষণার মাধ্যমে তিনি আমাদের দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। তিনি নিজের স্বপ্নকে বুকে রেখে নানা পথ ঘুরে পাড়ি জমিয়েছেন গবেষণার তীর্থভূমি আমেরিকা তথা নাসায়। বিজ্ঞানী আতিক উজ জামান বুয়েটে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করেন। তিনি 1982 সালে তার পড়াশোনা শেষ করে বুয়েটের লেকচারার ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট ঠিক সেই সময়ে তিনি কম্মন্বেলথ স্কলার্শিপ এ পড়াশোনা করতে যান তিনি ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানচেস্টারের মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি দেশে ফিরে বুয়েটেই আবার অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগদেন।

নাসায় বাংলাদেশী প্রথম নারী

এভাবে এক সময় তিনি আমেরিকায় পাড়ি জমান নিজের গবেষণার কাজ সমুন্নত রাখতে। এবং এখন তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নাসার হয়ে।

বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে প্রোগ্রাম পুনরারম্ভ করছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এবং তাদের সাথে যৌথ উদ্যোগে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ফুলব্রাইট প্রোগ্রাম

গত 25 মে 2022 যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে পিটার হাঁস দীর্ঘ 6 বছর পর u.s. ফুলব্রাইট প্রোগ্রামের পুনরারম্ভ করেন এবং তার সাথে যৌথ উদ্যোগে যোগদান ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। ফুলব্রাইট প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্র সরকার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাগশিপ এক্সচেঞ্জ কর্মসূচি। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জনগণের সাথে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উদ্ভাবিত হবে। এ ডিপার্টমেন্ট এর সাথে চার হাজারের বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থী রয়েছেন যার মধ্যে 650 জন বাংলাদেশি।

2016 সালে হলি আর্টিজানে অতর্কিত হামলার পরে এই প্রোগ্রামটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এবং দীর্ঘ 6 বছর পর যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রোগ্রামটি পুনরায় চালু করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ফুলব্রাইট প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ডক্টর শ্যারন হাট বাংলাদেশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জাহান্নাম ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার জন্য আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button