Breaking newsInformation

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা [দেখুন বিস্তারিত]

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা: কেনো কমছে না বিদ্যুতের লোডশেডিং! গরমে দেশের মানুষ যখন অতিষ্ঠ ঠিক তখনই সারাদেশ থেকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে।  দিনে ও রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষেরা জানাচ্ছেন দফায় দফায় লোডশেডিং এর  কথা।ফেসবুক সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ লোডশেডিং এর কথা লিখেছেন। পাবনা জেলায় ১৫ দফায় লোডশেডিং হয়েছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা

হঠাৎ করেই শুরু হওয়া লোডশেডিং কবে শেষ হবে  সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে  কোন তথ্য দেয়নি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। তবে লোডশেডিং কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেল’র মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসাইন। তিনি জানিয়েছেন, আমাদের পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিকে ভুলে গেলে চলবে না।

ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের পর জ্বালানির বাজারের যে অবস্থা এখানে আমাদের কারও হাত নেই। যে এলএনজি ৫ ডলারে পাওয়া যেতো সেটা এখন কিনতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ ডলারে। জার্মানি, ইতালির মতো উন্নত রাষ্ট্র গুলো লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমান সক্ষমতা

লোডশেডিংকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে জার্মান সরকার। যাতে গ্রাহকরা আগে থেকেই লোডশেডিং এর পূর্ব প্রস্তুতি  রাখতে পারেন। দিনে পনের দফায় লোডশেডিং এর প্রসঙ্গে বলেন, কোথাও টানা দুই ঘণ্টা লোডশেডিং  করা হলে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি ‌একটানা অনেকক্ষণ ফ্যান ছাড়া থাকাও কষ্টকর। তাই  ৩০ মিনিটের বেশি লোডশেডিং না করে নিয়ম শৃঙ্খলায় আনার পরিকল্পনা চলেছে।

কেনো হচ্ছে লোডশেডিং

কয়েক বছর আগেও  রাতে তুলনামুলক কম লোডশেডিং হতো।এখন মধ্যরাতেও থাকছে না বিদ্যুৎ , রাতে টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা লোডশেডিং এর ফলে জনগণ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে।কেনো হচ্ছে এই লোডশেডিং ? এমন হাজারো প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে জনমনে। মূলত জনগণের বিদ্যুতের চাহিদার প্যাটার্নটি এখন বদলে গেছে। পিক আওয়ার (রাত ৯টা)থেকে শুরু করে  ভোররাতেও থাকছে বিদ্যুতের চাহিদা।

Today’s Load Shedding Schedule (All Division) 2022

৪ জুলাই পিক আওয়ারের জন্য উৎপাদন করা হয়েছে ১২ হাজার ২৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুত এবং ভোর ৪টায় ১১ হাজার ৫৯১ বিদ্যুত। কিছুদিন আগেও ভোর রাতের দিকে বিদ্যুতের  চাহিদা ছিলো ৬ থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াটের নিচে।১৪’শ এমএমসিএফডির মতো গ্যাস সরবরাহ পেলে সমস্যা হতো না। কয়েকমাস আগেও ১ হাজার এমএমসিএফডির উপর গ্যাস পাওয়া গেছে। এখন তা ৯’শ এমএমসিএফডির নিচে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা বিস্তারিত

সে কারণে গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলো চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল জ্বালানি তেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। তারপরও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না সরকার। ৪ জুলাই রাত ৯ টায় গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট, তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৪৯৫ মেগাওয়াট, কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৭৯৭মেগাওয়াট, হাইড্রো ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১২২ মেগাওয়াট এবং আমদানি করা হয় ১ হাজার ১৩ মেগাওয়াট। ওই সময়ে চাহিদা ছিলো ১৫ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি।

কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় বাংলাদেশে?

ঠিক কবে নাগাদ এই সমস্যার থেকে সমাধান আসবে  সে বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার। জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরো সাশ্রয়ী হতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জন্য দু’টি জটিলতা  সামনে অপেক্ষা করছে। এই জটিলতা দুটি হচ্ছে  পণ্যের উচ্চমূল্য এবং পণ্যের প্রাপ্যতা। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো ডলার নিয়ে বসে আছে। যে কোন দামে তারা গ্যাস কিনতে আগ্রহী। কিন্তু বাংলাদেশের মতো বিভিন্ন আয়ের দেশের পক্ষে এত দাম দিয়ে গ্যাস ক্রয় করা সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে অজানা তথ্য [দেখুন বিস্তারিত]

যেহেতু গ্যাসের স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাঘাত ঘটছে সেহেতু গ্রাহকদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে মিতব্যয়ী হতে হবে।  তেল ব্যবহারের মাধ্যমে গ্যাসের ঘাটতি মোকাবেলা করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব কিন্তু বর্তমান বাজারে তেলের দামও চড়া । তাই উচ্চমূল্যে তেল ক্রয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমান সক্ষমতা (আমদানিসহ)

বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদনে বর্তমান (আমদানিসহ) সক্ষমতা রয়েছে ২১ হাজার ৩৯৬ মেগাওয়াট। এরমধ্যে কয়লা ভিত্তিক ১ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট, গ্যাস ভিত্তিক ১০ হাজার ৮৭৮ মেগাওয়াট, ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক ৫ হাজার ৯২৫ মেগাওয়াট, ডিজেল ভিত্তিক ১ হাজার ২৮৬ মেগা ওয়াট, একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাইয়ে ২৩০ মেগাওয়াট, আমদানি ১ হাজার ১৬০ ও সৌর বিদ্যুৎ থেকে ২২৯ মেগাওয়াট। ৪ জুলাই রাতে গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে অর্ধেকের ও কম অর্থাৎ ৪ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষম হয়েছিল।

পেট্রোবাংলার তথ্য মতে ৪ জুলাই গ্যাস সরবরাহ করা হয় ২ হাজার ৭৩৫ এমএমসিএফডি। ওই দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২ হাজার ২৫২এমএমসিএফডির বিপরীতে সরবরাহ করা হয় মাত্র৮৭৯এমএমসিএফডি, সার উৎপাদনে ৩১৬ এমএমসিএফডির বিপরীতে ১৩৪এমএমসিএফডি, ননগ্রিডে ৮৭.৪এমএমসিএফডি এবং অন্যান্য খাতে ১ হাজার ৬৩৩ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়ছিলো।

বাংলাদেশের গ্যাস সংকট এবং লোডশেডিং

গ্যাসের যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে এ বিষয়ে অনেকেই দ্বিমত পোষন করেছেন। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের বিদ্যুতের উৎপাদন সিস্টেমে কমবেশি ৩ হাজার এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এরমধ্যে অধিকাংশই (২৩’শ) দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশ হতে গড়ে প্রায় ৮’শ এমএমসিএফডি অধিক গ্যাস আমদানি করা হতো।

আমদানি করা এলএনজির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় ৭’শর মতো। মাত্র ১’শ আমদানি করা হয় স্পর্ট মার্কেট থেকে। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির গ্যাসের দাম বাড়েনি, দাম বেড়েছে শুধু স্পর্ট মার্কেটে। যার কারণে স্পর্ট মার্কেট থেকে গ্যাস আমদানি না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মাত্র ১’শ গ্যাস কম আমদানি করার কারণে এমন ভয়াবহ লোডশেডিং হতে পারে এ কথা অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা ও গ্যাস স্বল্পতা

প্রতিদিন সাড়ে ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতার কথা প্রচার করা হলেও  এখন গড়ে উৎপাদন হয় সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী মোট ছয়টি বিদ্যুৎ কোম্পানী রয়েছে। এগুলো হলো-বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো), নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) এবং ঢাকা ইলেক্ট্রিসিটি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)।

বিদ্যুৎ বিভাগ গত কয়েক বছরে  ধরে লোডশেডিং শব্দটা ব্যবহার করত না বললেই চলে। লোডশেডিং এর জন্য তারা এখন দুঃখ প্রকাশ করছে। মূলত ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে গ্যাস ও তেল সরবরাহ সংকটের কথা তুলে ধরে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, নৌ রুটে আগের মতো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না । শুধুমাত্র আমাদের দেশে না পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই প্রত্যেকটা জিনিসের এখন ঘাটতি।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো লোডশেডিং এর ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতিরিক্ত লোডশেডিং এর কারণে সেবামূলক কার্যক্রম বন্ধ হতে যাচ্ছে শিল্প কারখানাগুলো বন্ধু প্রায়। সম্পূর্ণ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কলকারখানার মালিকেরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যুদ্ধের কারণে গ্যাসের স্বল্পতা

ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিপদ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে সঠিক করে বলা সম্ভব নয় তবে আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই গ্যাসের স্বল্পতা কাটিয়ে উঠে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হবে। এই পরিস্থিতিতে সকলের উচিত ধৈর্য ধারণ করা।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা

সব শেষে এক নজরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরা হল। (তথ্য সুত্র- পাওয়ার সেল)

বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (মেঃওঃ) ১৩,১৭৯* (মার্চ ২০১৭)
সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন (মেঃওঃ) ৯,২১২ (১৮ এপ্রিল ২০১৭)
গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৪২ লক্ষ (মার্চ ২০১৭)
মোট সঞ্চালন লাইন (সা.কি.মি.) ১০,৩৭৭ (ফেব্রুয়ারি ২০১৭)
বিতরণ লাইন (কি.মি.) ৩ লক্ষ ৯৩ হাজার (ফেব্রুয়ারি ২০১৭)
সিস্টেম লস ১৩.১০% (জুন ২০১৬)
বিতরণ লস ১০.৬৯% (জুন ২০১৬)
বিদ্যুৎ সুবিধা প্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ৮০%

 

ক্যাপটিভ ও সোলার হোম সিস্টেম ব্যতীত।

লোডশেডিং শিডিউল ২০২২ রাজশাহী

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা

লোডশেডিং শিডিউল ২০২২ ঢাকা

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা 1

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button