InformationTechnology

জাভা প্রোগ্রামিং কি? জাভা প্রোগ্রামিং এর ইতিহাস (পর্ব: ০১)

জাভা প্রোগ্রামিং কি? : জাভা প্রোগ্রামিং মুলত কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর ভাষা। জাভা প্রোগ্রামিং সান মাইক্রোসিস্টেমের দ্বারা নব্বইয়ের দশকের দিকে

জাভা প্রোগ্রামিং (পর্ব: ০১)

জাভা প্রোগ্রামিং কি?

জাভা প্রোগ্রামিং কি? : জাভা প্রোগ্রামিং মুলত কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর ভাষা। জাভা প্রোগ্রামিং সান মাইক্রোসিস্টেমের দ্বারা নব্বইয়ের দশকের দিকে জাভা ডিজাইন করে। এরপরে জাভা প্রোগ্রামিং অতি দ্রুত বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি প্রোগ্রামিং ভাষাতে রূপান্তরিত হয়। জাভার জনপ্রিয়তার পেছনের মূল কারণ কারণ হলো জাভা প্রোগ্রামিং এর বহনযোগ্যতা, নিরাপত্তা আর এর অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ও ওয়েব প্রোগ্রামিং এর প্রতি পরিপূর্ণ সাপোর্ট থাকা।

জাভা প্রোগ্রামিং এর ইতিহাস

১৯৯১ সালের জুনে James Gosling, Mike Sheridan আর Patrick Naughton একসাথে জাভা ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামিং এর প্রোজেক্ট আরম্ভ করেন। প্রথমের দিকে জাভা ল্যাঙ্গুয়েজের নামকরন Oak kora হয় । James Gosling এর অফিসের বাহিরের Oak গাছের সাথে মিল রেখে প্রথমে জাভা প্রোগ্রামিং এর নাম Oak রাখা হয়। এরপর জাভা প্রোগ্রামিং এর নাম Green রাখা হয়।

জাভা প্রোগ্রামিং কি?

এরপর তারা মিলে একদিন একটি কফিশপে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন ঠিক তখনই কফির কাপটি দেখে ধোঁয়াতোলা কফির কাপের সাথে মিল রেখে লোগো তৈরি করা হয় আর Green এর নাম পরিবর্তন করে জাভা নাম রাখা হয়। ১৯৯৫ সালের দিকে Sun Microsystem জাভা 1.0 সর্ব প্রথম প্রকাশ করে। তাদের মূলনীতি ছিল Write Once, Run Anywhere ।

   ইউটিউব থেকে টাকা আয় করা যায় কিভাবে?   

   ২০২২ সালে YOUTUBE থেকে টাকা আয় করার নিয়ম জেনে নিন   

জাভা প্রোগ্রামিং এর সংস্করণ

জাভার যে কয়টি সংস্করণ বের হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সংস্করণ গুলো হল:

ভার্সন

রিলিজ তারিখ

১. জেডিকে ১.০   ২১/০১/১৯৯৬ ইং,
২. জেডিকে ১.১  ১৯/০২/১৯৯৭
৩. জে২এসই ১.২ ৮/১২/১৯৯৮
৪.জে২এসই ১.৩  ৮/০৫/২০০০
৫. জে২এসই ১.৪  ৬/০২/২০০২
৬. জে২এসই ৫.০ ৩০/০৯/২০০৪
৭. জাভা এসই ৬ ১১/১২/২০০৬
৮. জাভা এসই ৭ ২৮/০৭/২০১১
৯. জাভা এসই ৮ ১৮/০৩/২০১৪
১০. জাভা এসই ৯ ২১/০৯/২০১৭
১১. জাভা এসই ১০ ২০/০৩/২০১৮
১২. জাভা এসই ১১  ২৫/০৯/২০১৮
১৩. জাভা এসই ১২  ১৯/০৩/২০১৯
১৪. জাভা এসই ১৩ ১৭/০৩/২০১৯
১৫. জাভা এসই ১৪  ১৭/০৩/২০২০

জাভা প্রোগরামিং কিভাবে কাজ করে ?

জাভাতে যে কোড গুলো লিখা হয় সেগুলো কম্পাইল হয়ে সরাসরি মেশিন কোডে পরিণত হয় না। এর পরিবর্তে কোড গুলো বাইট কোড নামে বিশেষ একটি মধ্যবর্তি অবস্থায় আসে যা .class ফাইল নামে থাকে। এই .class ফাইল সরাসরি রান হতে পারে না। .class ফাইলকে রান করতে হলে জাভা ভার্চুয়াল মেশিনের সাহয্যে চালাতে হয়। এর কারণ হলো বাইট কোড গুলোকে কেবলমাত্র জাভা ভার্চুয়াল মেশিনই বুঝতে পারে অন্য কোনো মেশিন নয়।

  নতুন এনআইডি কার্ডের আবেদন পদ্ধতি  

image

জাভা পোগ্রামিং এর গুরুত্বপূর্ণ দিক কি কি?

জাভা পোগ্রামিং এর পর্টাবিলিটি

জাভার পুরাতন প্রোগ্রামিং ভাষাগুলো সাধারণত এক অপারেটিং সিস্টেমে লেখা হলে জাভা প্রোগ্রাম গুলো অন্য অপারেটিং সিস্টেম এ রান করা যেত না বা চলত না। জাভায় লেখা প্রোগ্রাম যেকোন অপারেটিং সিস্টেমে চালানোর জন্য নতুন অপারেটিং সিস্টেমের একটি জাভা রানটাইম এনভায়রনমেন্ট তৈরী করা হয়।  নতুন এনআইডি কার্ডের আবেদন পদ্ধতি  

এই সুবিধার জন্য জাভা একটি অনন্য প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। জাভা পোগ্রাম বিশেষ করে ইন্টারনেটে যেখানে অসংখ্য কম্পিউটার যুক্ত থাকে এবং কম্পিউটারগুলো বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে সেখানে জাভায় লেখা অ্যাপলেট গুলো সকল কম্পিউটারে চলতে পারে এবং এর জন্য কোন বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। জাভার এই সুবিধাকে বলা হয় পর্টাবিলিটি।

  ঢাকা মেট্রো রেলের ভাড়া কত? দেখে নিন এক ঝলকে  

জাভার অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং

অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং জাভার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক গুলোর মধ্যে একটি। প্রোগ্রামিং জগতে মূলত chimula 67 যা এক প্রকার প্রোগ্রামিং ভাষা এবং small talk প্রোগ্রামিং ভাষার সাহয্যে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং এর সূচনা হয়। পরে জাভার মাধ্যমেই উক্ত পোগ্রাম গুলো পরিপূর্ণভাবে আপগ্রেড হতে সক্ষম হয়েছে। অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং এর কারণে জাভায় অতিদীর্ঘ প্রোগ্রাম লেখা এবং ত্রুটিমুক্ত debug করা অনেক সহজ হয়।

জাভা প্রোগ্রাম তৈরি উদ্দেশ্য

সহজ, স্বাধীন প্লাটফোর্ম, হাইলি সিকিউরড, হাই পারফরমেন্স, মাল্টিথ্রেডেড, ওবজেক্ট ওরিয়েন্টেড, ইন্টারপ্রেটেড এবং ডাইনামিক লুক দেয়া জাভা প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য ছিল।

বর্তমানে জাভা বিভিন্ন কাজে যেমন: ইন্টারনেট প্রোগ্রামিং করতে, মোবাইল ডিভাইস চালাতে, গেমস তৈরি করতে, বিজনেসের জন্য ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফরমে ইউজ করা হয়ে থাকে।

Sun microsystem এর ছোট্ট একটি টিম যাকে গ্রীন টিম বলা হতো তারা James Gosling এর নেতৃত্বে ১৯৯১ সালে জাভা প্রোজেক্টকে বিশ্বের সামনে পরিচিত করেন। প্রথমে James Gosling এই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর নাম রেখেছিলেন Greentalk যার সেই সময় ফাইল extention ছিল .gt । এর পর এর নামকরন করা হয় Oak এবং গ্রীন প্রোজেক্ট এর অংশ হিসেবে Oak কে ডেভলপ করা হয়।

১৯৯৫ সালে Oak এর নাম পূনরায় পরিবর্তন করা হয় এবং জাভা নাম রাখা হয়।

জাভার কোড গুলো C++ এর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে যার জন্য কেউ যদি C++ শিখে তবে তার জন্য এরপর জাভা শিখা অনেক সহজ হয়ে যায়।

জাভা প্রোগ্রামিং এর প্রকার
জাভা মূলত ৪ প্রকার। এগুলো হলো:

১. Java SE,

২. Java FX,

৩. Java ME,

৪. Java EE.

পরবর্তী পোস্টে আমরা Java SE, Java FX, Java ME, Java EE কি, এগুলো কিভাবে কাজ করে জাভা প্রোগ্রাম কিভাবে শিখবেন এসকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button